১০ সেকেন্ড

একজন বাবার গল্প  

screenshot 1

বইটির ফ্ল্যাপ এ লেখা 

শামসু কখনো নায়ক হতে চায়নি। সে শুধু চেয়েছিল তার মেয়েটা মানুষ হোক। বিল্ডিংয়ের গায়ে ঝুলে প্রতিদিন রং করে সে। উচ্চতাকে ভয় পায়, তবুও কাজ করে। কারণ ভয় থেকেও বড় তার সংসার। কিন্তু একদিন হঠাৎ দড়ি খুলে যায়। তারপর… মাত্র ১০ সেকেন্ড।

এই ১০ সেকেন্ডে শামসুর সামনে ফিরে আসে পুরো জীবন। মৃত্যুর দিকে যেতে যেতে তার পুরো জীবনটা দেখতে শুরু করে। নদীর পাড়ে কাটানো শৈশব, দারিদ্র্য, হারানো স্বপ্ন, আলোবাসা, ভয়, আশা, আর ফিরে আসা। নদীর গন্ধ, কাটানো দিন, দূরে ফেলে আসা মানুষ, ভালোবাসা, সংগ্রাম, আর মেয়েটার মুখ।

মাত্র ১০ সেকেন্ড। একজন মানুষ আকাশ থেকে নিচে পড়ছে। মানুষটার নাম শামসু। পেশায় রংমিস্ত্রি।

সে খুব সাধারণ একজন মানুষ। সংসার আছে। বউ আছে। একটা ছোট মেয়ে আছে, যে তাকে কখনো “বাবা” আবার কখনো “বাপজান” বলে ডাকে।

জীবন খুব ছোট নয়, আমরা সময় পাই না বলেই ছোট মনে হয়। কখনো কখনো, পুরো জীবন ভেসে ওঠে মাত্র ১০ সেকেন্ডে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গল্পগুলো অনেক সময় খুব সাধারণ মানুষদের জীবনেই লুকিয়ে থাকে। আমরা এই মানুষগুলোকে প্রতিদিন দেখি—রাস্তার পাশে, বিল্ডিংয়ের গায়ে, ভিড়ের মধ্যে। তবুও খুব একটা খেয়াল করি না।

“১০ সেকেন্ড” সেই রকমই এক গল্প। একজন বাবার গল্প। খুব সাধারণ একজন মানুষের গল্প।